প্রযুক্তির সীমাহীন উন্নয়ন এবং বিপ্লব সাধনের প্রান্তর বুকে সেরে আছে আমাদের সমাজ। এখন পর্যন্ত আমরা বৃহৎ পরিবর্তনের সাথে সহজেই সহন করতে পেরেছি প্রযুক্তির দিকে এগোবেলা পথ ধরে।
এখন সময় হয়েছে সামাজিক পরিবর্তনের, এটি আমাদের জীবনের প্রত্যাশা, বাধ্যতা এবং কর্তব্য হয়ে উঠেছে। তবে এই পরিবর্তন আমাদের সমাজের নাগরিকদের কেমন প্রভাব ফেলছে তা উপর আলোচনা করা হচ্ছে এই লেখায়।
প্রযুক্তির প্রবর্তনের ফলে সমাজের প্রতি আকর্ষণ এবং আকর্ষণের স্তর বেড়ে যাচ্ছে। এখন আমরা জ্ঞানের স্বাধীনতা পেয়েছি ইন্টারনেটের মাধ্যমে।
জানার জন্য আমাদের যাত্রা কম্পিউটার স্ক্রিনের দিকে তাকিয়েছে। ইন্টারনেট আমাদের দিয়েছে অসীম সম্ভাবনার বিশাল খাজনা। যেকোনো বিষয়ে আমরা খুঁজে বের করতে পারি অদম্য তথ্য, সংকলিত শিক্ষার্থীদের সহায়তায় জানতে পারি পঠিত বিষয়টি নিয়ে।
সাম্প্রতিক পড়াশোনার পরিকল্পনা থেকে প্রযুক্তির সহায়তায় নিজেকে নিজের নিজের হাতে উজ্জীবিত করতে পারে পাঠাগার ও পাঠশালা।
প্রযুক্তির এই বিপ্লবে সমসাময়িক শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন সাকার করতে হচ্ছে আরও সহজ হয়ে উঠেছে। অনলাইন শিক্ষা প্লাটফর্মে বসে থাকা মাস্টার ক্লাসের পাঠাগার, শিক্ষকের উপস্থাপনা স্লাইড এবং অনলাইন টিউটোরিয়াল আমাদের অবশ্যই সাহায্য করছে।
এছাড়াও আমরা দূরবর্তী পঠনে ভালো হয়েছি। যার কারণে আমরা পূর্ণরুপে অনলাইন শিক্ষা পাচ্ছি এখনও স্থানীয় পাঠশালায় সম্ভবত পাচ্ছিনা।
প্রযুক্তির দিকে এগোবেলা পথ ধরেই নতুন এক প্রযুক্তি উদ্ভাবন হচ্ছে বিল্ডিং এবং ইন্টেলিজেন্ট সিটিসে। স্মার্ট হোম, স্মার্ট কার ও স্মার্ট সিটি প্রজেক্ট আমাদের সম্পূর্ণ পরিবেশে প্রযুক্তির আশাচর্য কাজটি দেখিয়েছে।
স্মার্ট ডিভাইস ও ইউনিভার্সাল সংযোগের মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে দিচ্ছি এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তৈরি করতে পাচ্ছি।
প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সঙ্গিনী অর্থনৈতিক বিকাশ ও আর্থিক সমৃদ্ধি। মোবাইল পেমেন্ট, ই-কমার্স, স্মার্ট ব্যাংকিং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সুযোগ সরবরাহ করেছে।
বাংলাদেশের বিকাশ, নাগদ, রকেট এবং আরো অনেক সফল ডিজিটাল মুদ্রার একটি সাক্ষাত্কার হচ্ছে। প্রযুক্তির প্রতিবেশনা বিপ্লবের ফলে অর্থনৈতিক বিকাশে বাড়তি গতি এবং সহজতর সুযোগ পাচ্ছি বর্তমানে।
তবে প্রযুক্তির বিপ্লব সহজেই সহ্য করা যায় না। এর সঙ্গে সঙ্গে সমাজের নাগরিকেরা শেখার ও কাজ করার সময় ধারণা পরিবর্তন করেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে সামাজিক সংযোগ হচ্ছে নিজের সময় আরও সংকট সম্ভাবনার মাঝে।
নিজের জীবনের সমস্যার সামাধানে যদি অনলাইন সহায়তা না পাওয়া যায় তাহলে কী হবে আমাদের? প্রযুক্তির দ্বারা মানুষের জীবন পরিবর্তন হচ্ছে, কিন্তু সামাজিক সংযোগের জন্য নিজেকে বাঁচাতে বিশ্বস্ত কী থাকে?
চিন্তা করা দরকার কী পরিবর্তনের জন্য বাংলাদেশ প্রযুক্তি ব্যবহার করছে?
কোথায় আমরা ভুলেও গিয়েছি?
কোথায় আমাদের এখনও অগ্রসর হতে হবে?
কীভাবে প্রযুক্তির উপযোগী ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে সরকারের, প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের?
এগোবেলা পথ ধরে নতুন বিশ্বের পরিকল্পনা কী সেটিকে আমাদের বাংলাদেশের মাধ্যমে সম্ভব হয়ে উঠতে হবে।
আমরা এগোবেলা পথ ধরে স্বপ্ন সাকার করতে পারি তবে সামাজিক সংযোগের দিকেও মনে রাখতে হবে।
সকলের জীবনের প্রশ্ন একই, আমরা কীভাবে একটি সক্ষম প্রযুক্তিগত সমাজ গড়তে পারি যেখানে প্রতিটি নাগরিকের সম্মান এবং সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
কেন না আমরা এগোবেলা পথ ধরে একটি স্বপ্নময় এবং বিজ্ঞানময় বাংলাদেশ সৃষ্টি করি?
বাংলাদেশ প্রযুক্তির বিপ্লবে এগোবেলা পথ ধরে চলতে হবে এমন স্বপ্ন সাকার করতে। এগোবেলা পথের প্রায়শই আমাদের পরিসরে কিছু সমস্যা এবং ত্রাণশয়ের দিকে প্রতিশ্রুতিগুলি নিয়ে এলেও আমাদের স্বপ্ন যাবে পূর্ণরূপে সাকার হবে যদি সকলেই এই পথ ধরে চলে।
সবাইকে প্রযুক্তির সম্পর্কে বিদ্যমান সংজ্ঞা ও বিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে হবে। এটি সমাজের সকল শ্রেণীর মানুষের বিভিন্ন আয়গনের জন্য সম্ভব।
এই লক্ষ্য পূর্ণ করতে হলে সরকার, প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলির মধ্যে সহযোগিতা ও পরামর্শের দরকার হবে।
প্রযুক্তি দিয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠাগার ও পাঠশালা পরিচালনা, বাড়িতে সফল প্রযুক্তির ব্যবহার, সাক্ষাত্কার ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা, প্রযুক্তি বিপ্লবের পরিধির মধ্যে সহযোগিতা করতে হবে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের।
বাংলাদেশ এগোবেলা পথে স্বপ্ন সাকার করতে পারবে যদি সকলে প্রযুক্তির গুরুত্ব মেনে নিচ্ছে এবং সেই পথ ধরে চলে।
এগোবেলা পথের সমাজের সাম্প্রতিক পরিবর্তনগুলি একটি বিশ্বাস হয়ে উঠবে। এটি আমাদের জীবনে বিশ্বাস নিশ্চিত করবে যে, আমরা বিশ্বে একটি গুরু
ত্বপূর্ণ অংশ এবং সেই বিশ্বের ভাগীদার। প্রযুক্তি আমাদের প্রগতির উপর অবশ্যই প্রভাব ফেলেছে, কিন্তু সেই পরিবর্তনগুলি যদি আমাদের ক্ষমতার বাইরে চলে যায়, তাহলে সমাজ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকবে না।
প্রযুক্তি নিয়ে আমাদের মাঝে অভিযান চালিয়ে তাকিয়ে দেবার জন্য সকলের সমর্থন এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ এগোবেলা পথে চলছে। প্রযুক্তির অভাব আমাদের সৃষ্টি নিশ্চয়ই সম্পূর্ণ প্রযুক্তিবিহীন জীবনের সাথে সংযোগ আবারো পাল্টিয়ে দেয়।
আমাদের বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রযুক্তিবিহীন একটি দেশ থাকবে না। আমরা সকলে একটি অভিযানের সদস্য, সকলের জীবনে প্রযুক্তি নিয়ে চিন্তা করছি এবং নতুন বিশ্বে প্রযুক্তির বাইরে আমাদের জীবনের উচ্চতা সাধন করছি। বাংলাদেশ এগোবেলা পথ ধরে চলছে, বাংলাদেশ স্বপ্ন সাকার করবে।
